একত্রিশতম অধ্যায় গোপন কক্ষ
ক্লোন মানুষ ও ফ্র্যাঙ্ক যাত্রার সূচনাস্থলে এসে পৌঁছাল। দুজন একসঙ্গে সময়ের দরজার পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণ করল: ‘‘শাশ্বত সময়ের দরজা, খুলে দাও, আমাদের ফিরে যেতে দাও আগের পথেই!’’ মুহূর্তেই তাদের সামনে এক বিশাল আলোকদ্বার উদ্ভাসিত হলো, তীব্র দীপ্তিতে ঝলমল করল, ক্লোন মানুষ ফ্র্যাঙ্ককে ধরে একসঙ্গে সেই দরজা পেরিয়ে গেল...
এদিকে সময়ের দরজার ভিতরে, লিউ ফেইকে রোবট একটি ইস্পাত কাঠামোতে নির্মিত ঘরে টেনে এনে ফেলে রাখল। সে গভীর ঘুমে ডুবে গেল...
উদ্ধার দল পিরামিডের কাছাকাছি জায়গায় চল্লিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করছিল। এসময় বিশাল এক বালুঝড় পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে গিজার দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করল।
‘‘অধিকর্তা, অনুগ্রহ করে অভিযান দ্রুততর করুন! এখানে বিশাল এক বালুঝড় আসছে!’’ এক সদস্য ডাকে
‘‘প্রস্তুত থাকো, নির্দেশ পেলেই অভিযান শুরু করবে!’’ অধিকর্তা উত্তর দেয়
‘‘সকল সদস্য, আদেশ পেলেই কাজ শুরু করতে হবে!’’ আদেশ পেয়ে সদস্যরা একে অন্যকে জানায়
দশজন উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি পরে, মুখে মাস্ক লাগিয়ে পিরামিডের দিকে এগিয়ে গেল। যখন তারা অর্ধেক পথ পেরোলো, দূর থেকে প্রবল বাতাসের শব্দ ভেসে এলো, কালো মেঘের মতো বালুঝড় সামনে আসতে লাগল। সবাই গতি বাড়াল, কিন্তু দ্রুতই তারা ঝড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল। শুধু পাশে থাকা মানুষের ছায়া দেখা যাচ্ছিল; তারা বালুঝড়ে স্পটলাইট জ্বালাল, কিন্তু তীব্র আলোও মাত্র এক মিটার সামনে পর্যন্ত দৃশ্যমান করছিল।
ঝড় চলল প্রায় আধ ঘণ্টা। একে একে সবাই পিরামিডের প্রবেশদ্বারে পৌঁছাল, তখনই শান্ত হলো পরিবেশ।
পিরামিডের ভিতরে, পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা গোপন পথ দিয়ে এগোতে লাগল, সব স্পটলাইট জ্বালিয়ে, পথে পথেই পর্যবেক্ষণ করছিল।
‘‘অধিকর্তা, আমরা পিরামিডের গোপন পথে পৌঁছেছি,’’ এক সদস্য জানায়
‘‘জানি, এখন ফারাওয়ের কক্ষ পর্যন্ত গিয়ে আমার আদেশের জন্য অপেক্ষা করো!’’ অধিকর্তা নির্দেশ দেয়
‘‘জ্বি, অধিকর্তা!’’ সদস্য উত্তর দেয়
তাড়াতাড়ি সবাই গোপন পথের মোড়ে গিয়ে নজর বুলাল।
আকস্মিকভাবে নিচের কক্ষে কিছু শব্দ শোনা গেল, যেন কেউ ধাতব কিছু আঘাত করছে, আবার কিছুটা অস্পষ্ট।
‘‘চলো দেখে আসি!’’ এক সদস্য বলল
‘‘তিনজন নিচে নেমে দেখো কী আছে!’’
তিনজন ছোটখাটো সদস্য নিচের কক্ষে ঢোকে, সেখানে ঠাণ্ডা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ল না। তারা টর্চ দিয়ে শব্দের উৎস খোঁজে। কক্ষে কয়েকটি পাথরের কফিন, তার ওপর জাল। কিছু ইঁদুর কফিনের পাশে দৌড়াচ্ছিল, তারা মানুষ দেখে দ্রুত গোপন পথ দিয়ে পালিয়ে যায়! সবাই চমকে ওঠে।
‘‘এখানে ইঁদুরও আছে?’’ একজন বলল
‘‘এতে আশ্চর্যের কী আছে, এখানে তো মমিও আছে,’’ অন্যজন উত্তর দেয়
‘‘চুপ করো, শুনতে অদ্ভুত লাগছে,’’ তৃতীয়জন বলে
‘‘ভয় কী? আমরা তো অনেক জন!’’
‘‘ভয় পাই না, তবে এখানে কথা না বলাই ভালো, ভেতরে কেউ থাকলে চমকে যেতে পারে,’’ তৃতীয়জন কফিনের দিকে ইঙ্গিত করে
‘‘এখনকার শব্দটা কি কফিন থেকে এসেছে?’’ সে বলল
‘‘থামো, কথা বন্ধ করো, দ্রুত খোঁজ নাও, কিছু না পেলে ফিরে চল!’’
‘‘ঠিক আছে, ঠিক আছে!’’ সবাই বলল
তারা গোপন পথ ধরে ফেরত এসে অন্যদের সঙ্গে মিলল।
‘‘কিছু ইঁদুর ছাড়া কিছুই না,’’ ফিরে এসে বলল
‘‘তাহলে ভালো~’’
উদ্ধার দল ধীরে ধীরে ফারাওয়ের কক্ষের দিকে যেতে লাগল। যদিও অন্য সদস্যরা শব্দটি নিয়ে সন্দেহে ছিল, তারা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করল, উপরে উঠে পিছনেও নজর রাখছিল।
গোপন পথের শেষেই ফারাওয়ের কক্ষ, সবাই সতর্ক হয়ে উঠল, গভীরভাবে শ্বাস নিল, হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল।
কক্ষে তারা লিউ ফেই ও ফ্র্যাঙ্কের রেখে যাওয়া দুইটি পোশাক দেখতে পেল, পাথরের কফিনের ঢাকনা আধা খোলা...
‘‘সাবধান, কেউ যেন অকারণে কিছু না করে, আদেশ আসা পর্যন্ত সবাই অপেক্ষা করো,’’ নেতা বলল
‘‘সবাই এখানে দাঁড়িয়ে খবরের জন্য অপেক্ষা করো!’’
সবাই পিঠের যন্ত্রপাতি নামিয়ে, শরীরে জমা বালু ঝেড়ে, পানির বোতল থেকে পানি খেল।
‘‘সকল সদস্য শোনো, তোমরা এখানে দশ ঘন্টা পাহারা দেবে, বাকিদের সঙ্গে ক্লোন মানুষ সময়ের দরজা দিয়ে উদ্ধার করতে আসবে,’’ অধিকর্তা নির্দেশ দিল
‘‘ক্লোন মানুষ কবে আসবে?’’ নেতা প্রশ্ন করল
‘‘তথ্যমতে, তারা পাঁচ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছাবে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করো,’’ অধিকর্তা বলল
‘‘সবাই নিরাপদে থাকবে, ক্লোন মানুষের নির্দেশ অনুসরণ করবে, সবাই নিরাপদে ফিরে আসবে!’’
‘‘জি!’’ সবাই সমস্বরে উত্তর দিল।
এদিকে, লিউ ফেই সময়ের দরজা কারখানার গোপন কক্ষে ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরল...
চারপাশে তাকিয়ে দেখল, চোখে ঝাপসা, কানে অস্পষ্ট যন্ত্রের শব্দ।
‘‘ফ্র্যাঙ্ক! ফ্র্যাঙ্ক!’’ সে নিজের ওয়াকিটকি চালু করল
‘‘…………’’
‘‘ক্লোন মানুষ, তোমরা কোথায়? আমি ধরা পড়েছি!’’ লিউ ফেই উৎকণ্ঠায় বলল
‘‘…………’’ কোনো উত্তর নেই
লিউ ফেই ভাবল, এবার শেষ; তারা নিশ্চয়ই সময়ের দরজা ছেড়ে গেছে, আর সে চিরদিন এই কোণে ভুলে যাবে, একাকী বাকি জীবন কাটাতে হবে। তার মন ভরে গেল হতাশায়... সে সময়ের কোণে ভুলে গেছে, কেউ জানবে না!
‘‘কেউ আছেন? কেউ আছেন?’’ তার কণ্ঠ অন্ধকার কক্ষে প্রতিধ্বনি তুলল।
কক্ষে ছিল নানা মেশিন ও অনেক কাঁচের বোতল, বোতলগুলোতে নানা রঙের তরল, কিছু গ্যাস ভেতরে নড়ছিল, রঙিন তরল বুদবুদ করে নিচ থেকে উপরে উঠছিল।
হঠাৎ এক রোবট তার সামনে এলো।
‘‘জ্ঞান ফিরেছে, কি পুষ্টি প্রয়োজন?’’ রোবটের মাথার স্ক্রিনে ভেসে উঠল
লিউ ফেই আর উপায় না দেখে মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
রোবট বুদবুদ করা কাঁচের বোতল থেকে তিন মিটার দীর্ঘ দুটি নল বের করে লিউ ফেইয়ের সামনে ধরল।
‘‘নমস্কার, এটা তোমার এক সপ্তাহের পুষ্টি, পাঁচ মিনিটের মধ্যে পান করো, নয়তো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।’’
লিউ ফেই ভাবছিল এগুলো কী, স্ক্রিনে ইতিমধ্যে সরবরাহ বন্ধের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে, সময় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
সে একবার তাকিয়ে, নিরুপায় হয়ে এক চুমুক খেল। স্বাদটা অদ্ভুত, যেন কোকাকোলা ও গ্লুকোজের মিশ্রণ, অস্বাভাবিক হলেও তিন চুমুক খেয়ে কষ্টে গিলল। পান করার পরই চোখের দৃষ্টি স্পষ্ট হলো, শরীর উষ্ণ হয়ে উঠল...